"মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রকৃতির রূপমুগ্ধ মানুষ নানাভাবে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্য উপভোগ করে। প্রকৃতির অপরূপ রূপে তাদের মন ভরে যায়। ফলে তারা মনের দুঃখ, পরিতাপ ভুলে গিয়ে নতুনভাবে জেগে ওঠে। নতুন করে স্বপ্নে বিভোর হয়। প্রকৃতির নদী, ঝরনা প্রভৃতির আপন আপন ছন্দ ও ছুটে চলার গতি মানবজীবনে নতুন ছন্দ আনে, অনুপ্রেরণা দান করে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি ঝরনার ছন্দময় বয়ে চলাকে মানুষের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। ঝরনার চলার এই গতির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও মানুষের জীবনের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে এর মিল নেই। ঝরনা পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়ের ভয় দেখানো- সবকিছু উপেক্ষা করে ছুটে চলে; আর উদ্দীপকের নদীও আপন গতিতে আত্মহারা, পাগলপারা। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে সেই সৌন্দর্যকে ইঙ্গিত করা হয়নি। ঝরনার ছুটে চলার যে চমৎকার ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈচিত্র্য পাওয়া যায়, উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নদীর গতিময়তার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। সে নবীন পাতায়, ফুলের ধারায় আপন গতিতে ছুটে চলে। কিন্তু তার পথ চলার ছন্দ মানুষকে কর্মচঞ্চল করে না। কিন্তু ঝরনা তার চলার ছন্দে মানুষের মনে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে প্রাণিত করে। নতুনভাবে জেগে উঠে কাজের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাওয়ার অনুপ্রেরণা দান করে। ঝরনা নির্জন পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে যে সৌন্দর্য বিস্তার করে ছুটে চলে তা উদ্দীপকে নদীর চলায় দেখা যায় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allঝরনা চপল পায়ে ছুটে চলে।
'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর।
সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।
প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।
'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!